মানিকগঞ্জে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগে সরকারি পিএস মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

দেশজুড়ে
জেলা প্রতিনিধি। মানিকগঞ্জ।
০৯:৪৯:২০পিএম, ১৭ নভেম্বর, ২০২০
সংবাদ সম্মেলনের ছবি

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর সদরের একমাত্র সরকারী পি.এস মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে টাকা আত্নসাৎ সহ নানা অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিদ্যালয়ের অভিভাবক বৃন্দ।

১৭ নভেম্বর  মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতপুর প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবক এসএম রফিকুল ইসলাম ও বাবুল হোসেন ৬ মিনিটের লিখিত বক্তব্য সকলের সামনে পাঠ করেন। 

তারা লিখিত বক্তব্যে বলেন-স্কুলে আইসিটির কোন কার্যক্রম না থাকলেও শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আইসিটির চাঁদা আদায় এবং দুই বছর আগে স্কুলটি সরকারী করণ করা হলেও বেসরকারী হারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন ও পরীক্ষার ফি নেয়া হয়। প্রধান শিক্ষক দুই লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে কাজল ব্রাদার্স কোম্পানির অনুপম গাইড বই পাঠ্য করে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামলূক কিনতে বাধ্য ও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান । স্কুলের ভাড়া দেয়া দোকানগুলোর টাকা স্কুল ফান্ডে জমা না দিয়ে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান নিজেই আত্মসাৎ করেছেন।

পরীক্ষার  সময়ে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থাকার সুবাধে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের নিকট প্রশ্নের উত্তরপত্র সরবরাহ ও খাতা পরিবর্তন  করে থাকেন ওই প্রধান শিক্ষক। আর এই অভিযোগে গত বছর কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও কোন তদন্ত হয়নি। তাই উক্ত দূর্ণীতিবাজ প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকরা।

এ বিষয়ে থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.আব্দুল কদ্দুছ বলেন-এই প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের নামে পূর্বে একটি মামলা রয়েছে সে মামলাটি হল জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার তার বাড়ির রাস্তায় বিছিয়ে যাতায়াতের  জন্য একটি মামলা হয় এবং মামলাটি চলমান রয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিন আগেও তিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব মানুষ এর মধ্যে মুসলমান জাতি সবচেয়ে নিকৃষ্ট জাতি বলায় বিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক  মো.মাহবুব হোসেন নিজে বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.ইমরুল হাসানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে প্রধাণ শিক্ষকের শাস্তির দাবীতে। এতে বিদ্যালয়ের ৬জন  শিক্ষক স্বাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর করেছেন এবং  উপজেলা নির্বাহী অফিসার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তাকে।তাই  এই শিক্ষকের নামে আনিত অভিযোগ তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্যে প্রশাসনের নিকট দাবী করেছেন।

এসময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এবিষয়ে দৌলতপুর সরকারী পি এস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.মিজানুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমার নামে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এর কোন সত্যতা নেই। আমার বিরুদ্ধে একটি কু-চক্রীমহল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্যে বিভিন্ন সময় আমার নামে মিথ্যা তথ্য সরবারহ করে আমার ক্ষতি করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন তাই আমি এ সকল কু-চক্রীমহলের তদন্ত স্বাপেক্ষে  দৃষ্টান্ত মুলক শান্তি দাবী করছি প্রশাসনের কাছে।