রৌমারীতে চতুর্থ দিকে থইথই করছে পানি

দেশজুড়ে
স্টাফ রিপোর্টারঃ
০২:২০:৩৭পিএম, ১৮ জুন, ২০২২

কযেক দিন ধরে ভারি বৃষ্টির কারনে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি  ঢলে  কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার  সবগুলো নদ-নদীর পানি বেড়েই চলছে । এতে ৮০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় লক্ষাধিক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরেছেন।

 আজ শনিবার রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় রৌমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নেই বন্যার পানি ঢুকে পরেছে। বাড়ির চতুর্থ দিকে থইথই করছে পানি এবং প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের ঘরের ভিতরেও পানি প্রবেশ করেছে। কেউবা ঘরের ভিতর উচু করে মাচান দিয়ে তার উপরে কোনমতে সময় কাটাচ্ছেন।  এসব এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা ও কলা গাছের ভেলায় করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করছে।


চর শৌলমারী ইউনিয়নের নামাজের, কাজাইকাটা,ফুলকার চর,সাহেবের আলগা,শান্তির চর,ঘুঘুমারী চর,মিয়ার চর, সুখের বাতি পাড়ের চর, সোনা পুর। 
যাদুরচর ইউনিয়নের পুরাতন যাদুরচর,চর লাঠিয়ালডাঙ্গা, বালিয়ামারী, খেওয়ারচর, বকবান্দা, আলগারচর,পাহাড়তলী, যাদুরচর পূর্বপাড়া, তিনঘড়িপাড়া, বকবান্ধা কাশিয়াবাড়ী, লালকুড়া, বিক্রিবিল কান্দা পাড়া,বাঘমারা। 
শৌলমারী ইউনিয়নের চরবোয়াল মারী,গয়টাপাড়া,বোয়ালমারী, বেহুলার চর।
বন্দবের ইউনিয়নের বাগুয়ারচর,কুটিরচর, ফুলুয়ারচর বাইটকামারি,বলদ মারা।

উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের কাউনিয়ারচর, চরগয়টা পাড়া, চর কাউনিয়া চর, আমবাড়ি,পাড়েরচর,ঝগড়ার চর,ধর্মপুর ,হরিণ ধরা, কাউয়ার চর, টাপুর চর হাজির হাট, মুখতোলা,ডিগ্রির চর,গাছ বাড়ি,ইটালুকান্দা।

রৌমারী সদর ইউনিয়নের বাওয়াইরগ্রাম,ফুলবাড়ি, ভুন্দুরচর, নয়ারচর, গোয়ালগ্রাম, চান্দারচর, খাটিয়ামারী, মাদারটিলা, কড়াইকান্দি ঝাউবাড়ি, দুবলাবাড়ী, রতনপুর,কলাবাড়ি,বড়াইবাড়ি, চুলিয়ারচর, উত্তর বারবান্দা, ইজলামারী সহ উপজেলার
 প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

হু হু করে পানি বাড়তে থাকায়  ব্রহ্মপুত্র নদ, জিনজিরাম নদী,হলহলি নদী,সোনাভরি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। 
নদ-নদী অববাহিকার বসতভিটায় পানি প্রবেশ করায় বিপাকে পড়েছেন দুগর্তরা।

রৌমারীর নতুন বন্দর এলসি পোটে পানি ওঠায় পোর্টের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পরেছে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক। আন্তইউনিয়ন সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে প্লাবিত এলাকার মানুষজন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদ সীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গাছবাড়ি,কাজাইকাটা,আমবাড়ি,ইটালুকান্দা গ্রামের কৃষক আঃ রহিম মিয়া, কালাম মিয়া, দেলুয়ার হোসেন , আঃ সবুর মিয়া, মো.নজরুল ইসলাম তারা বলেন কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টির হওয়ার কারনে উজানের পাহাড়ি ঢোল নেমে এসে আমাদের 
পাট, তিল,কাউন,চিনা,শাকসবজি আউশ ধান ও আখ সহ  সব ফসল তলিয়ে গেছে।  
তারা আরও বলেন আমাদের বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে আমরা এদিক সেদিক যাতায়াত করতে পারছিনা, সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাহায্যও পাচ্ছি না। আমরা এখন খুব বিপাকে আছি কিভাবে যে সামনের দিন গুলো কাটাবো তা ভেবেই পাচ্ছি না।

দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.আবু সাঈদ  জানান,আমার  ওয়ার্ডের কাউনিয়ার চর,আমবাড়ি,চর গয়টা পাড়া, কেল্লা বাড়ি, গ্রামের সব বাড়ির চতুর্থ পাশে পানি প্রবেশ করেছে। এতে প্রায় ১ হাজর পরিবার পানি বন্দি হয়ে পরেছে, এবং প্রায় শতাধিক পরিবারের ঘরের ভিতরে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া কয়েকটি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

১নং দাঁতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান এস,এম রেজাউল করিম রেজা বলেন , বন্যার পরিস্থিতি খুব খারাপ। কয়েক ধরে অতি বৃষ্টি, হঠাৎ করে রাতারাতি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে,
হাজার,হাজার মানুষ। 

রৌমারী উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আমিনুল ইসলাম (কাজল)বলেন উপজেলায় প্রায় ২৮শ ৫০ হেক্টর পাট, ২৩ শ২০ হেক্টর রোপা আউশ, ৯৫,হেক্টর তিল, প্রায় ৮০ হেক্টর আখ, ৩৭৫ হেক্টর শাকসবজি এবং অন্য অন্য ফসল প্রায় ২০ হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে হাজার,হাজার কৃষক ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পরেছেন।

রৌমারী উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মেজবাহ আলম বলেন উপজেলায় প্রায় ৯০ কিলোমিটার কাঁচাপাকা রাস্তা  তলিয়ে গেছে এরমধ্যে ৩০ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ৬০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। 

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল ( ভারপ্রাপ্ত) সাথে  বন্যা বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন আমার রৌমারী উপজেলায় ৬টি 
ইউনিয়নের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষই পানি বন্দি হয়ে পরেছে। তিনি আরও বলেন,উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং টিম ও  বন্যা নিয়ন্ত্রন সমন্বয় কক্ষ চালু করা হয়েছে। সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকায়  ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ চলমান।