নাগেশ্বরীতে বয়স্ক-বিধবা ভাতাভোগীর সিমকার্ড আটকিয়ে ইউপি সদস্যের চাঁদাবাজি

দেশজুড়ে
নাগেশ্বরী।(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ
০৬:২৯:৫৯এএম, ৯ জুন, ২০২১

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগীদের নির্ধারিত বিকাশ করা সিমকার্ড আটকিয়ে ২ হাজার করে টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে আনোয়ার হোসেন নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড  সদস্য। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। 
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাগেশ্বরীর বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে বয়স্ক ও বিধবাদের নিকট থেকে ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ভাতা কার্ড করে দেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের নিকট থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র জমা নেয় এবং স্ব-স্ব ভাতাভোগীর নামের সিম কার্ডে বিকাশ খোলার জন্য তার বাড়িতে ডাকেন। বাড়িতে ডেকে নিয়ে ভাতাভোগীদের কাছ থেকে সিমকার্ডে বিকাশ খোলার নাম করে সিম জমা নিয়ে ছবি তুলে বিকাশ করে দিয়ে সিমকার্ড ও বিকাশের পিন কোড নিজের কাছেই রেখে দেয়। পরে ভুক্তভোগীরা বিকাশের সিম ও পিন কোড ফেরৎ চাইলে যে সিম জমা দেবে না তার ভাতাকার্ড হবে না বলে হুমকী দেয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন। পরে ভুক্তভোগী অসহায় মানুষগুলো নিরুপায় হয়ে ভাতাকার্ড পাওয়ার আশায় ওই সদস্যের কাছে সিম জমা রাখেন। এরপরে কিছুদিন আগে জানতে পারেন তারা বয়স্ক ও বিধবা ভাতার তালিকা ভুক্ত হয়েছেন এবং প্রত্যেকের সিমের বিকাশ নম্বরে সরকারিভাবে জনপ্রতি ৩ হাজার করে টাকা সংযুক্ত হয়েছে। বিষয়টি জানারপর সিম ও পিনকোড ফেরত চাইলে ওই সদস্য ২ হাজার করে টাকা দাবি করেন। নয়তো সিম ফেরত দেবেন না বলেও জানায়। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ করেন তারা। 
ভুক্তভোগী কুদ্দুছ খান, সাহের আলী, ফজিলা বেওয়াসহ আরও অনেকে সাংবাদিকদের জানান, আনোয়ার মেম্বার সিমে বিকাশ করে দেয়ার কথা বলে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে সিম জমা নিয়ে ছবি তুলে সিমে বিকাশ করে দেয়। পরে আর সিমও দেয়নি বিকাশের পিনকোডও দেয়নি। এখন ৩ হাজার টাকা থেকে নাম প্রতি ২ হাজার করে টাকা দাবি করছেন। টাকা না দিলে সিম ফেরৎ দেবে না। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। 
এ ব্যাপারে বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি ওদের কাছে সিম চাইনি ওরাই নিজে থেকে আমাকে বিকাশ করার জন্য সিম জমা দিয়েছে। অনেকের ভুল নাম্বার দিয়েছিলো। তাই সমস্যা সমাধানে সিমগুলো আমার কাছে ছিলো। তবে আমি ওদেরকে সিম নিয়ে যেতে বলেছি। 
নাম প্রতি ২ হাজার করে টাকা দাবি করার ব্যাপারে বলেন, তাদের কাছ থেকে ২ হাজার করে টাকা দাবি করা হয়নি। আমার বিরোধী পার্টিরা ষড়যন্ত করে আমার নামে মিথ্যা বলছে। তবে এখানে একটি মসজিদ মেরামতের জন্য আমি নিজে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি এবং তাদেরকেও বলেছি আপনারা যে যা পারেন কিছু করে টাকা দেন। যাতে সবার সহযোগিতায় মসজিদের কাজ সম্পন্ন হয়।
এ ব্যাপারে জানতে বেরুবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেবকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর আহমেদ মাছুম বলেন, সমাজসেবা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সালেকুল ইসলাম বলেন, আমি ব্যস্ততার কারণে এখনও তদন্ত করতে পারিনি। তবে দু-একদিনের মধ্যেই ব্যস্ততা কমে যাবে। ব্যস্ততা কমলেই তদন্ত করে ইউএনও স্যারকে রিপোর্ট জমা দেব। তারপর উনি যা ব্যবস্থা নেয় নেবে।