বসুন্ধরার এমডিকে আসামি করেছেন সেই তরুণীর বোন

রাজধানী
বাংলামেইল ডেস্ক।
০৩:০৯:৫২পিএম, ২৭ এপ্রিল, ২০২১
মোসারাত জাহান মুনিয়া

রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করা মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী ওই তরুণীর বোন নুসরাত জাহান।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যার পর গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের বাড়ি কুমিল্লার উজির দিঘির পাড়।

গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সোমবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, বাসাটিতে মুনিয়া একাই বসবাস করতেন। ভাড়া ১ লাখ টাকা।

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘গত ২৩ তারিখে একটি ইফতার পার্টির ঘটনায় দুজনের ঝগড়া হয়। পার্টির ছবি ফেসবুকে আপলোড করা হলে দুজনে বিবাদে জড়ান। বসুন্ধরার এমডি মনোমালিন্যের প্রেক্ষিতে চাপ দিতে থাকেন…তার এখানে যদি সরাসরি অংশগ্রহণ থাকে কিংবা যদি পরোক্ষ থেকে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মামলার এজাহারে যা আছে: ২১ বছর বয়সী মুনিয়া মিরপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে মামলার আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে মোসারাতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তারা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালে মুনিয়াকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসামি রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তারা বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২০ সালে আসামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আসামির মা মুনিয়াকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আসামি কৌশলে মুনিয়াকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, সবশেষ গত ১ মার্চ আসামি মুনিয়াকে প্ররোচিত করেন। তিনি বাসা ভাড়া নিতে বাদী নুসরাত ও তার স্বামীর পরিচয়পত্র নেন। ফুসলিয়ে তিনি মুনিয়াকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি ও তার ছবি স্বামী-স্ত্রীর মতো তুলে বাঁধিয়ে রাখেন। আসামি বাসায় আসলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো।

আসামি মুনিয়াকে বলেন, তারা বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবেন। কারণ দেশে থাকলে আসামির বাবা-মা আসামিকে কিছু না করলেও মুনিয়াকে মেরে ফেলবেন। ১ মার্চ থেকে আসামি মাঝে মাঝে ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন।

মুনিয়ার বোন এজাহারে দাবি করেন, ২৩ এপ্রিল মুনিয়া তাকে ফোন করে বলেন, আনভীর তাকে বকা দিয়ে বলেছেন, কেন সে ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি ‌পিয়াসা দেখেছেন। পিয়াসা মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক বন্ধু। এখন পিয়াসা তার মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন। তিনি (আসামি) দুবাই যাচ্ছেন, মুনিয়া যেন কুমিল্লায় চলে যান। আসামির মা জানতে পারলে মুনিয়াকে মেরে ফেলবেন।

দুদিন পর ২৫ এপ্রিল মুনিয়া তাকে ফোন করেন। ওই সময় তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাকে বিয়ে করবেন না, শুধু ভোগ করেছেন। আসামিকে উদ্ধৃত করে মুনিয়া বলেন, আসামি তাকে বলেছেন, তিনি (মুনিয়া) তার শত্রুর সঙ্গে দেখা করেছেন। মুনিয়াকে তিনি ছাড়বেন না। মুনিয়া চিৎকার করে বলেন, আসামি তাকে ধোঁকা দিয়েছেন। যেকোনো সময় তার বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তারা (বাদী মুনিয়ার পরিবার) যেন দ্রুত ঢাকায় আসেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, নুসরাত (মুনিয়ার বোন) তার আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন। আসার পথে বারবার মুনিয়ার ফোনে ফোন করেন, কিন্তু তিনি আর ফোন ধরেননি। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে আসেন। তারা নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করেন। পরে ফ্ল্যাট মালিকের নম্বরে ফোন দিলে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার পরামর্শ দেন। মিস্ত্রি ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি দেখেন, তার বোন ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝুলে আছেন।

পুলিশ সূত্র বলছে, ২৬ এপ্রিল সকাল ১১টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় মোসারাত মারা যান।

বাদী নুসরাত মামলার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

মুনিয়া যেদিন আত্মহত্যা করেন সেদিন আসামি তাকে চুরির অপবাদ দেন। আসামি দাবি করেন, মুনিয়া তার থেকে ৫০ লাখ টাকা নিয়েছেন।