হরিরামপুরে মাটি ব্যবসায়ী সবুজ-খালেদের ভেকু তান্ডবে বিলীন হচ্ছে ফসিল জমির মাটি

দেশজুড়ে
সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ।
০৯:০২:২৬এএম, ১৫ এপ্রিল, ২০২১

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষের জীবন জীবিকার অন্যতম মাধ্যম কৃষি। বর্তমানে একটি শক্তিশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র তাদের লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছেন এই ইউনিয়নের ডাকরখালী ও গোরাইল ফসলী জমির দিকে।

হরিরামপুর উপজেলা প্রশাসন ইতোপূর্বে এ উপজেলাকে ড্রেজার ও ভেকু মুক্ত ঘোষনা দিলেও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তারা অবৈধ মাটি ব্যবসার সাথে লিপ্ত রয়েছে। মাটি খনন যন্ত্র হিসেবে তারা ব্যবহার করছেন দানব প্রকৃতির অবৈধ ড্রেজার ও ভেকু।

এলাকার রাস্তাঘাট ও পাশ্ববর্তী ফসলী জমির দিকে না তাকিয়ে তারা তাদের পকেট ভর্তির জন্য অবাধে মাটি বিক্রি করছেন বিভিন্ন জায়গায়।

ইউনিয়নের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাটি ব্যবসায়ী সবুজ ও খালেদের দাপটে সাধারণ মানুষ অসহায়। কোন কৃষক ড্রেজার ও ভেকু বন্ধের বিষয়ে তাদের অনুরোধ করলে তারা তাদেরকে নানারকম ভয়ভীতি ও মামলার ভয় দেখান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১ নং বাল্লা ইউনিয়নের গোরাইল ও ডাকরখালি মৌজায় পিয়ারা মিয়ার জমিতে তার ছেলে সবুজ এবং ভাতিজা খালেদ গং মিলিত হয়ে রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ইট ভাটাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন।

স্থানীয়দের মাধ্যমে আরো জানা যায়, এই মাটি ব্যবসায়ী চক্র ইতোপূর্বে একই জায়গায় ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে লক্ষ লক্ষ টাকা বাণিজ্য করেছে। এতে তারা লাভবান হলেও বিপাকে পড়ছেন পাশ্ববর্তী জমির মালিকরা। কারণ অনতিবিলম্বে তাদের জমিও ভেঙ্গে একাকার হয়ে যাবে।

গোরাইল গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা প্রতিবেদককে জানান, ডাকরখালি মৌজার পিয়ারা মিয়ার যে জমি থেকে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে তার উভয় পাশে তার ফসলী জমি রয়েছে। এরা যদি এভাবে মাটি কাটতে থাকে তবে তার ফসলী জমি আর থাকবে না। এ মর্মে তিনি হরিরামপুর উপজেলা প্রশাসন বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করলে তারা সরেজমিনে এসে মাটির কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখতে আদেশ দেন। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা রাতের আঁধারে প্রতিনিয়ত ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে। মোবাইলে অপরিচিত নাম্বার থেকে তাকে বেশ কয়েকবার হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ড্রেজার ব্যবসায়ী সবুজ বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আমি মাটি ব্যবসা করি। আমার কাছে কোন লিখিত বা মৌখিক অনুমতি পত্র নাই। অপর প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী খালেদ মোবাইল ফোনে বাংলামেইলের প্রতিবেদককে বলেন, আমি মাটির ব্যবসা করলে আপনার সমস্যা কোথায়? আমার সাথে আপনার কিসের শত্রুতা? আমি কাজ করছি, আমাকে কাজ করতে দেন। আমার বিরুদ্ধে লিখে আপনি আমার কিছুই করতে পারবেন না। যাহোক, সন্ধ্যায় আমি আপনার সাথে দেখা করবো।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এ মর্মে একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আমি লোক পাঠিয়ে ভেকু বন্ধ করেছিলাম। এর পরও যদি তারা ভেকু দিয়ে মাটি কাটে তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ভেকু ও ড্রেজারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।