আবাদি জমিতে বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ায় জমির মালিক আসামি

দেশজুড়ে
স্টাফ রিপোর্টারঃ
০৬:৫০:১৫পিএম, ১ এপ্রিল, ২০২১

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে কৃষকের আবাদি জমিতে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ার কারনে বালু খেকোদের হামলায় আহত কৃষকের নামেই মামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত কৃষক থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ না করে উল্টা তাদের নামেই মামলা গ্রহণ করে। বালু খেকোদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ করে পুলিশ ওই মামলা গ্রহণের ঘটনায় এলাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দিয়ারার চরের ওই ঘটনায় নিযার্তিত কৃষক গতকাল সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। একই অভিযোগ পুলিশ সুপার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। 

ওই অভিযোগ অস্বীকার করে ঢুষমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার্ ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘বালু তোলা নিয়ে মারামারি ঘটনার বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ ঘটনায় যে পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে তাদের মামলা আমরা নিয়েছি। অন্য পক্ষ অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। তবে কৃষকরা জানান, অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে আমাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে বের করে দেয় থানা থেকে।

দিয়ারারচরের কৃষক অফিজল হক কালু অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের আবাদি জমি থেকে গত ২৬ মার্চ অবৈধ ভাবে বালু তোলা শুরু করে বালু খেকো আব্দুস সবুর ও আব্দুস সালাম। চর কেটে বালু নেয়া ছাড়াও তারা আমাদের জমির তীর ঘেঁষে নদে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে। এ অবস্থায় আমরা জমির মালিকরা নিষেধ করলে বালু খেকোরা পরিকল্পিক ভাবে আমাদের ওপর হামলা করে। তাদের হামলায় চারজন কৃষক আহত হয়ে রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। ঘটনার পরের দিন আমরা অভিযোগ নিয়ে ঢুষমারা থানায় গেলে আমাদের ধমক দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয় ওসি।

প্রায় ৩০জন কৃষকের জমি থেকে অবৈধ ভাবে ওই বালু উঠানো হচ্ছে। এদের মধ্যে কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা শুনেছি অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনকারীরা ঢুষমারা থানার ওসিকে মাসে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দেয়। বালু খেকোরা মাসোহারা ছাড়াও ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এখন পুলিশ আমাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিচ্ছে। আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি। ওসমান গণি নামের এক কৃষক বলেন, থানা থেকে আমাকে ফোন করে বলেছে বালু উত্তোলনে বাধা না দিলে তোমাদের গ্রেপ্তার করা হবে না। আমাদের সোনা ফলানো জমির ওপরের অংশ কেটে নিচ্ছে। কোথাও বিচার পাচ্ছি না আমরা। আরেকটা বিষয় হলো বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানকে ভোট দেইনি আমরা এ কারনে বড় বিপদে আছি। রাতে বাড়িতে থাকতে পারছি না।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢুষমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার্ ইফতেখার হোসেন বলেন, বালু খেকোদের কাছ থেকে মাসোহারা নেয়ার তথ্যটি মিথ্যা। বালু উত্তোলনের বিষয়টি দেখেন উপজেলা প্রশাসন। মারপিট সংঘর্ষ হওয়ার কারনে ওই মামলা নেয়া হয়েছে। অন্য সব অভিযোগ সত্য নয়।