সিঙ্গাইরে জমে উঠেছে পৌরসভা নির্বাচন

দেশজুড়ে
শামীম রেজা, মানিকগঞ্জ।
০১:১৯:৫১পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু নাঈম এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট খোরশেদ আলম। ছবি বাংলামেইল

আর মাত্র ৪ দিন বাকি, আগামী ২৮ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সিংগাইর পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। শেষ মূহুর্তের প্রচারণায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। 

চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্রই চলছে নির্বাচনী আলাপন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সিংগাইর পৌরসভার সমস্ত অলিগলি সাঁজ সাঁজ রব। অনেকে আবার পছন্দের প্রার্থীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। বেশ জমে উঠেছে পৌরসভার নির্বাচন। প্রার্থীরা ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, দিচ্ছেন নানান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। নির্বাচিত হয়ে আধুনিক পৌরসভা গড়া ও সব ধরণের নাগরিক সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।

উঠান বৈঠক, চা-চক্র ও কুশলাদি বিনিময়সহ সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন মানুষের কাছে। ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পঞ্চম ধাপে সিংগাইর পৌরসভা নির্বাচনে এবার মেয়র পদে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু নাঈম মো. বাশার ও বিএনপি প্রার্থী অ্যাড. খোরশেদ আলম জয় আটঘাঁট বেঁধে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি সংরক্ষিত ৯ নারী কাউন্সিলর ও ২৭ জন পুরুষ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতীক পেয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২২ হাজার ৬ শত ৩ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৭৫ ও নারী ১১ হাজার ৫২৮ জন ভোটার আগামী ৫ বছরের জন্য সিংগাইর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত করবেন।

আজ বুধবার সিংগাইর পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনকে ঘিরে পৌর এলাকার প্রতিটি অলিগলি ছেয়ে গেছে পোস্টারে। সিংগাইর পৌর এলাকায় প্রার্থীদের নির্বাচনী অফিস, দোকানপাট, বাসা-বাড়িতে রয়েছে লিফলেট ও পোস্টারের ছড়াছড়ি। শহরের এমন কোনো জায়গা খালি নেই যেখানে কোনো প্রার্থীর পোস্টার লাগানো হয়নি। কার চেয়ে কে বেশি পোস্টার লাগাবে- তা নিযে চলছে প্রতিযোগিতা। পোস্টার আর মাইকিং এর শহরে পরিণত হয়েছে সিংগাইর পৌর এলাকা। 

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবু নাঈম মো. বাশার বলেন, সারাদেশে উন্নয়নের পাশাপাশি সিংগাইর পৌর এলাকার উন্নয়নে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়া একান্তভাবে প্রয়োজন। সে চিন্তা করে পৌরবাসী আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করবেন। আমি নির্বাচিত হলে এ পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভায় রুপান্তরিত করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবো ইনশাল্লাহ।

বিএনপির মনোনীত ও বর্তামান মেয়র খোরশেদ আলম জয় বলেন, নেতা কর্মীদের মনে একধরনের ভয় ভীতি কাজ করছে। প্রচার-প্রচারনায় বাধা সৃষ্টি করছে তবে এখনও আমরা হাল ছাড়িনি। নির্বাচন সুষ্ঠ হলে ধানের শীষের বিপুল ভোটে জয় হবে। তিনি বলেন, আমি পরপর দুই বার মেয়র নির্বাচিত হয়ে পৌরসভা উন্নয়নে কাজ করে আসছি। এবার নির্বাচিত হতে পারলে এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব। অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার চেষ্টা করবো। স্থানীয় ভোটার দেওয়ান জিল্লুর রহমান বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌরসভার অলি গলিতে নৌকা ও কাউন্সিলরদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। তবে ধানের শীষের পোস্টার তুলনামূলক কম চোখে পড়েছে। মেয়র প্রার্থীদের চেয়ে কাউন্সিল প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচর প্রচানায় এগিয়ে আছে। আমরা সৎ ও যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দিবো। এদিকে নির্বাচন কমিশন সিংগাইর পৌরসভা নির্বাচন অবাধ শান্তিপূর্ণ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে সকল প্রার্থীদের সহযোগীতার মাধ্যমে পৌরসভা নির্বাচনটি হবে অবাধ ও অত্যন্ত শান্তিপূর্ন।