নিউ ইয়র্কের নূর সিমেট্রিতে ফাহিমের দাফন সম্পন্ন বিচারের দাবিতে প্রবাসীরা

ডেস্ক এডিটরডেস্ক এডিটর
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৫৮ PM, ২০ জুলাই ২০২০

বাংলামেইল ডেস্কঃ- ২০ জুলাই ২০২০,

তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশী বংশদ্ভূত ফাহিম সালেহর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার নিউ ইয়র্ক শহরে একটু দূরে আপস্টেটের নিউ উইনডসরে জানাজার পর স্থানীয় নূর সিমেট্রিতে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকালে ফাহিম সালেহর মরদেহ হাসপাতাল থেকে ফিউনারেল হোমের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

ফাহিমের বাবার বাড়ি পুকেপসির নিউ উইনডসর এলাকায়। সেখানকার নূর সিমেট্রিতে তাঁর মরদেহ পৌঁছালে তৈরি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের। কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা, মা, বোন ও স্বজনেরা। চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি প্রতিবেশি এবং উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।

জানাজায় গণমাধ্যম ও সাধারণের অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করতে আগে থেকেই ফাহিমের পরিবার সবাইকে অনুরোধ করে। এক বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমসহ সবাইকে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করা এবং শোকের এ সময় কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়। ফলে জানাজায় কেবল পরিবারের সদস্য, নিকটআত্মীয়, স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। পরে শোক আর ভালোবাসায় দাফন করা হয় ক্ষণজন্মা অসম্ভব মেধাবী এই তরুণকে।

এদিকে ফাহিম সালেহর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিদিনই অনেক মানুষ ভিড় করছেন ম্যানহাটনের ২৬৫ ইস্ট হাউস্টন স্ট্রিটের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে। বিলাসবহুল এই অ্যাপার্টমেন্টের সাত তলায় থাকতেন ফাহিম। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভবনের সামনে ফুল, কার্ড রেখে তরুণ এই টেক গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। কেউ হাত জোর করে নিরবতা পালন করছেন। কেউ প্রার্থণা করছেন তার আত্মার শান্তি কামনায়। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই তরুণের জন্যে কেউবা নিরবে চোখের জল ফেলছেন সেখানে দাঁড়িয়ে।
ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়াদের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। রবিবার অনেকেই গিয়েছিলেন ফাহিমের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। তাদেরই একজন কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট গোপাল সান্যাল। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, “আমাদের সন্তান ফাহিম। ভালোবাসা আর কষ্ট থেকে সেখানে গিয়েছিলাম। আগে ভালো করে হয়তো চিনতাম না। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, কত বড় মাপের মানুষ ছিলেন তিনি। বেঁচে থাকলে, আমি নিশ্চিত এই তরুণ আমাদের সম্মানকে অনেক বড় উচ্চতায় নিয়ে যেতেন। তিনি হয়তো মার্ক জাকারবার্গদের মতোই কিছু একটা হয়ে উঠতেন।”

হতাশার সুরে গোপাল সান্যাল জানালেন, “সেই সুযোগ ফাহিম পেলেন না। আমাদেরও দুর্ভাগ্য। এমন নির্মমতার শিকার তাকে হতে হলো। এখন হত্যাকারির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটানে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফাহিমের খন্ড-বিখন্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, আগের দিনই তাকে হত্যা করা হয়।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) খুনের অভিযোগে ফাহিমের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী টাইরিস ডেভন হাসপিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে হাসপিলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত অভিযুক্তকে জামিন না দিয়ে আগামী ১৭ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন।

এদিকে, ফাহিম সালেহর হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন নিউ ইয়র্ক প্রবাসীরা। সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন অনুষ্ঠানে তারা এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। শোক, ভালোবাসা এবং বিচারের দাবি তুলে ধরছেন। অভিযুক্ত হাসপিলের বিরুদ্ধে সেকেণ্ড ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনার বিষয়টি নিয়েও সমালোচনামুখর তারা। যদিও হত্যাকাণ্ডের পর পর এনওয়াইপিডির তৎপরতায় ফাহিমের পরিবার ও প্রবাসীরা সন্তোষ জানিয়েছেন।

তবে ফাহিম হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হাসপিলের বিরুদ্ধে কেন সেকেণ্ড ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন এনওয়াইপিডির বাংলাদেশি আমেরিকান অফিসার রাজুব ভৌমিক। তিনি জানান,”নিউ ইর্য়ক স্টেটে মার্ডার ফাস্ট এবং সেকেন্ড ডিগ্রির মান সমান। হাসপিলকে নিউ ইর্য়কের আইনের সর্বোচ্চ চার্জটিই দেয়া হয়েছে। মার্ডার ফাস্ট ডিগ্রি চার্জটি শুধু পুলিশ ও শান্তি অফিসার হত্যা করলে হয়। সিভিলিয়ান ভিকটিম হলে সর্বোচ্চ মার্ডার সেকেন্ড ডিগ্রি চার্জ হয়।”
তিনি আরও জানান, “নিউ ইর্য়কে মৃত্যুদন্ডের বিধান নেই। আর ওই দুটো ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ শাস্তি প্যারোল ছাড়া আজীবন কারাদণ্ড।”

প্রবাসীরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কি কেবল এক হাসপিলই জড়িত, নাকি অন্য কেউ রয়েছে, সেটা তারা জানতে চান। সেই সাথে বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্রুত কার্যকরের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন :